দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল পাথর খনি—মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পাথর উত্তোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রফিট বোনাস ও চাকরিচ্যুত চার শ্রমিক নেতাকে পুনর্বহালের দাবিতে শ্রমিকরা বুধবার সকাল ৭টা থেকে ধর্মঘট শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গতকাল সকালে খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল ১০টা থেকে পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। খনি কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক নেতারা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, খনি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) ৩৫০ জন শ্রমিক দিয়ে তিনটি শিফটে দিনে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টন পাথর উত্তোলন করে থাকে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসের ৭ তারিখে বেতন ও প্রফিট বোনাস দেয়ার কথা থাকলেও সময়মতো তা দেয়া হয় না। প্রতিবাদ করলেই চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয়া হয়। বিশেষ করে এবারের কোরবানির ঈদের আগেও দাবি সত্ত্বেও সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ না করায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ব্লাস্টার পদে কর্মরত শ্রমিক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি, ব্যাংক বন্ধ থাকার অজুহাত দেখিয়ে বেতন দেয়া হয় ২৭ জুন। এরপর প্রতিবাদ করলে জিটিসি চারজন শ্রমিক নেতাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। তারা হলেন ব্লাস্টার মো. শফিকুল আলম, লং ড্রিল অপারেটর রফিকুল ইসলাম, অপারেটর ওমর আলী এবং জুনিয়র হেলপার হাসান আলী। এর প্রতিবাদে বুধবার থেকে শ্রমিকরা খনির মূল ফটকে অবস্থান ধর্মঘটে বসে এবং পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিটিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বেলারুশের একটি কোম্পানি খনিতে পাথর উত্তোলনের কাজ করছে এবং বরখাস্তকৃত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে তিনজন বেলারুশ কর্মীকে খনির অভ্যন্তরে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ফলে বেলারুশ কর্মীরা ওই শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
তিনি আরো দাবি করেন, ঈদের আগেই প্রফিট বোনাস পরিশোধ করা হয়, তবে শ্রমিকরা তা যাচাই না করেই আন্দোলনে নামে। ফলে বাধ্য হয়েই চার শ্রমিককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এদিকে খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একটি মহল শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বারবার খনি কার্যক্রম বন্ধে উসকানি দিচ্ছে, যার ফলে বারবার অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে সরকার ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
মধ্যপাড়া পাথর খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে পাথর উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বিক্রি, পরিবহন ও বিপণন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা পেট্রোবাংলার অধীনে নয়, বরং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়োজিত।’ তিনি আরো জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেট্রোবাংলার নির্দেশে খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে অন্যান্য কার্যক্রম চলমান থাকবে।